শিরোনাম :
মৌলভীবাজারে ইনসানিয়া স্পেশালাইজড হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার এর উদ্বোধন  মগরাহাট পশ্চিমে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে সামিম আহমেদের জয় শুধু মাত্র সময়ের অপেক্ষা লালমনিরহাটে পুকুর থেকে মরদেহ উদ্ধার সাভারে এম.এ সালাম ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা ও দোয়া অনুষ্ঠিত কুমিল্লার কৃষকের বরাদ্দ খেয়ে খেলতো আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা : কৃষিমন্ত্রী আজ এইচএসসি পরীক্ষা শুরু ২ জুলাই মার্কিন অবরোধের প্রতিবাদে আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিল ইরান কক্সবাজার রামুতে স্বর্গপুরী উৎসবে বিশ্বশান্তি কামনায় প্রার্থনা ইউএইচএফপিও ৬ চিকিৎসককে ক্রেস্ট দিলেন প্রধানমন্ত্রী বাউফলে মেয়াদোত্তীর্ণ বিস্কুট বিতরণ ও হুমকির অভিযোগ
যোগাযোগ :

ঢাকা থেকে প্রকাশিত, সরকারি মিডিয়া তালিকা ভুক্ত, জাতীয়  দৈনিক যুগযুগান্তর পত্রিকায় ও যে যে টিভি... জেলা উপজেলা, বিশেষ প্রতিনিধি, ক্রাইম রিপোর্টার, বিভাগীয় প্রধান, ক্যাম্পাস প্রতিনিধি, বিজ্ঞাপন প্রতিনিধি নেওয়া হচ্ছে..। আগ্রহীদের সিভি পাসপোর্ট সাইজের ছবি এন আইডি কার্ড এর কপি এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট মেইল অথবা হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানোর অনুরোধ করা হলো। প্রধান কার্যালয়: ২৮, দিলকুশা বানিজ্যিক এলাকা (১৯ তম তলা), সুইট # ১৯০৩, মতিঝিল, ঢাকা - ১০০০। মোবা: 01978268378, হোয়াটসঅ্যাপ: 01612268378, ইমেইল: nskibria2012@gmail.com, শাখা অফিস : ১৮৭/২ আরামবাগ, ঢাকা। প্রধান কার্যালয়: ২৮, দিলকুশা বানিজ্যিক এলাকা (১৯ তম তলা), সুইট # ১৯০৩, মতিঝিল, ঢাকা - ১০০০। মোবা: 01978268378, হোয়াটসঅ্যাপ: 01612268378 ইমেইল: nskibria2012@gmail.com, শাখা অফিস : ১৮৭/২ আরামবাগ, ঢাকা।

কক্সবাজারে বরাদ্দের চাল পাননি ৬৩ হাজার ১৯৩ জেলে

কক্সবাজারে বরাদ্দের চাল পাননি ৬৩ হাজার ১৯৩ জেলে

কক্সবাজার প্রতিনিধি,
সাগরে মাছ ধরায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারির ২৯ দিন অতিবাহিত হলেও কক্সবাজার উপকূলীয় এলাকার ৬৩ হাজার ১৯৩ জন নিবন্ধিত জেলে এখনও ভিজিএফের (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) খাদ্য সহায়তা হিসেবে বরাদ্দকৃত চাল পাননি।

নিষেধাজ্ঞার কারণে সাগরে মাছ ধরতে না পারায় এসব জেলের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে তারা মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

এমন অবস্থায় হতদরিদ্র জেলে পরিবারগুলো চরম বিপাকে পড়েছে। বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী নারী, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি।

বৃহস্পতিবার (১৫ মে) কক্সবাজারের বিভিন্ন জেলে পল্লী ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ পরিবার চরম খাদ্যসংকটে ভুগছে। অনেক পরিবারে দিনে মাত্র এক বেলা খাবার মিলছে। কেউ কেউ নদীতীরের বেড়িবাঁধ বা বালুচরে বসে মাছ ধরার জাল মেরামত করছেন, কেউ সময় কাটাচ্ছেন অলসভাবে। আবার কেউ কেউ সাময়িকভাবে পেশা পরিবর্তন করে বিকল্প উপায়ে আয় করার চেষ্টা করছেন।

সরকার গত ১৫ এপ্রিল থেকে বঙ্গোপসাগর ও নাফ নদীতে ৫৮ দিনের জন্য মাছ আহরণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ২৮ দিন পেরিয়ে গেলেও ১৪ মে (বুধবার) পর্যন্ত কক্সবাজারের অধিকাংশ জেলে পরিবার এখনও সরকারি বরাদ্দের চাল পাননি।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি নিবন্ধিত জেলেকে নিষেধাজ্ঞার সময় ৮৬ কেজি চাল দেওয়ার কথা। এটি দুই ধাপে বিতরণ করা হবে—প্রথম ধাপে ৫৬ কেজি এবং দ্বিতীয় ধাপে ৩০ কেজি।

টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ ও জালিয়াপাড়ার জেলে রহমান আজহার ও মুজিব উল্লাহ জানান, মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির গুলি ও অপহরণের ভয়ে তাঁরা গত পাঁচ-ছয় মাস ধরে সাগর বা নাফ নদীতে মাছ ধরতে পারেননি। ইতোমধ্যে দুই শতাধিক জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে ওই গোষ্ঠী। সর্বশেষ গত ৮ এপ্রিল সেন্টমার্টিন দ্বীপের অদূরে বাংলাদেশের জলসীমা থেকে চারটি ফিশিং বোটসহ ২৩ জন মাঝিমাল্লাকে অপহরণ করে তারা।

টেকনাফ ফিশিং বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল কালাম জানান, বিজিবির তৎপরতায় সম্প্রতি কয়েক দফায় অপহৃত শতাধিক জেলেকে ফেরত আনা গেলেও অনেকে এখনও নিখোঁজ। এতে পরিবারগুলো উৎকণ্ঠায় রয়েছে। এর উপর সরকারি চাল না পেয়ে চরম হতাশায় ভুগছে জেলে পরিবারগুলো।

শাহপরীর দ্বীপের ট্রলারমালিক আবদুল আমিন ও সাবরাং ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান বলেন, দীর্ঘদিন মাছ ধরতে না পেরে জেলেরা এমনিতেই ক্ষতিগ্রস্ত। তার ওপর সরকারি সহায়তা না পাওয়ায় টেকনাফ উপজেলার অন্তত ১২ হাজার জেলে পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়েছে। বহু পরিবার অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন।

মহেশখালী ও অন্যান্য উপজেলাতেও খাদ্যসংকট
মহেশখালীর কুতুবজুম ইউনিয়নের জেলে রহিম উদ্দিন জানান, তাঁরা এখনও বরাদ্দের চাল পাননি। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার দপ্তরে যোগাযোগ করলে জানানো হয়, বরাদ্দের চাল এখনও এসে পৌঁছায়নি। অথচ গত বছর নিষেধাজ্ঞা শুরুর দুই সপ্তাহের মধ্যে চাল বিতরণ শুরু হয়েছিল।

মহেশখালীর হোয়ানক, মাতারবাড়ী, বড় মহেশখালী, ছোট মহেশখালী, গোরকঘাটা ও শাপলাপুর ইউনিয়নের শত শত জেলেও একই দুর্ভোগে রয়েছেন।

উপজেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মহেশখালী উপজেলায় মোট জেলে শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ২৮ হাজার। এর মধ্যে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১৫ হাজার ৮৩২ জন।

মহেশখালী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাহাদুল ইসলাম বলেন, “সরকারি বরাদ্দের চাল এখনও হাতে পৌঁছায়নি। চাল হাতে এলে দ্রুত বিতরণ করা হবে।”

কুতুবদিয়া উপজেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৯ হাজারের বেশি। চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলায়ও নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন ২৩ হাজারের বেশি। এই সব এলাকায়ও কেউ এখনো বরাদ্দকৃত চাল পাননি।

চরম দুর্দশায় জেলেরা
কক্সবাজার ফিশিং বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, জেলার ছোট-বড় প্রায় ৬ হাজার ট্রলারে কর্মরত জেলে শ্রমিক রয়েছেন প্রায় ১ লাখ ২৮ হাজার। ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞার আগের তিন মাসও অধিকাংশ জেলে বৈরী আবহাওয়ার কারণে মাছ ধরতে পারেননি। নিষেধাজ্ঞার ২৯ দিন পার হলেও চাল হাতে পাননি জেলেরা।

জেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নিষেধাজ্ঞায় (১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন) কক্সবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত ৬৩ হাজার ১৯৩ জন নিবন্ধিত জেলেকে খাদ্য সহায়তা হিসেবে দুই ধাপে ৮৬ কেজি চাল দেওয়ার কথা।

কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. বদরুজ্জামান বলেন, ‘সরকারি বরাদ্দের চাল পৌঁছাতে কিছুটা দেরি হচ্ছে। চাল হাতে পেলেই দ্রুত জেলেদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।’

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 jujugantor.com
Theme Customized BY SpacialNews.Com